দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফ্রান্সে স্কুল অবরোধ ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কিশোর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশটির বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা আবর্জনার পাত্রে আগুন দেয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারে। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
ফ্রান্সের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গত সপ্তাহ থেকে বিক্ষোভ চলছে। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকট, ক্লাসের সময়সূচি এবং সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহে অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠা শ্রেণিকক্ষের মতো বিভিন্ন সমস্যার প্রতিবাদে স্কুলের সামনে অবস্থান ও অবরোধ করছেন।
প্রথমে প্যারিসের আশপাশের ইল-দ্য-ফ্রান্স অঞ্চলে শুরু হওয়া এ আন্দোলন এখন দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দেশটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০ স্কুলের মধ্যে ৪০০টি বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে আক্রান্ত বা বিঘ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি স্কুল অবরুদ্ধ ছিল এবং আরও ৪৪টিতে অবরোধের চেষ্টা করা হয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভে ১০ জন শিক্ষার্থী ও কর্মী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া শত শত মানুষকে আটক করা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বিএফএম টিভিকে বলেন, সারা দেশে ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার গেফ্রে বিক্ষোভে সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়া বা অবরোধ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানানো শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মকর্তাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলার শামিল।
প্যারিসের উপকণ্ঠের একটি স্কুলে পুলিশ ও বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঠেকাতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ঘিরে মানবপ্রাচীর তৈরি করেন। উত্তরাঞ্চলীয় শহর লিলে একটি স্কুলের সামনে মুখোশ পরা শিক্ষার্থীরা আবর্জনার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল, পাথর ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।
পশ্চিমাঞ্চলীয় নঁতে শহরে শিক্ষার্থীরা কয়েক ডজন আবর্জনার পাত্র জড়ো করে স্কুলের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। প্যারিসের আরাগো স্কুলের সামনে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে পুলিশের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। একই ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে মার্সেই, বোর্দো ও লিওন শহরেও।
এদিকে মঙ্গলবার ফ্রান্সজুড়ে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন সরকারের বাজেট পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও ধর্মঘট পালন করেছে। সিজিটি ইউনিয়নের দাবি, দেশজুড়ে প্রায় তিন লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে রাজধানী প্যারিসে ছিলেন ৭০ হাজার। তবে পুলিশের হিসাবে প্যারিসে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০ হাজার, যার মধ্যে ৮ হাজার দমকলকর্মী ছিলেন।
সিজিটি ইউনিয়নের প্রধান সোফি বিনে বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ ব্যাপক। তিনি সরকারের প্রতি বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে নিয়ে প্রস্তাবিত বাজেট পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু অবশ্য উচ্চবিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়াকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছেন এবং বামপন্থি দল ফ্রান্স আনবোডকে বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
প্যারিসের নিম্নআয়ের এলাকা সেন-সাঁ-দেনিতে কয়েক শ শিক্ষার্থীর বিক্ষোভে অংশ নেন স্থানীয় মেয়র ও ফ্রান্স আনবোড দলের নেতা বালি বাগায়োকো। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবিকে বৈধ বলে মন্তব্য করেন এবং অভিযোগ করেন, নিম্নআয়ের এলাকাগুলো তুলনামূলক কম সরকারি সম্পদ পায়।
বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শিক্ষার্থী ও এক এএফপি সাংবাদিককে লাঠিপেটা করার ঘটনাও ঘটে। ১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, শহরতলির শিশুরা অবহেলিত ও বঞ্চিত। স্কুলের পরিবেশকেও তিনি অস্বাস্থ্যকর বলে অভিযোগ করেন। বাগায়োকো বলেন, কখনো কখনো সহিংসতা বৈধ হতে পারে, তবে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলে তা করাই ভালো।
সূত্র: ফ্রান্স ২৪
এমএস/